বর্ণিল সাজে কাপ্তাইয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তায় বড়দিন উদযাপন

চৌধুরী মুহাম্মদ রিপনঃ

পার্বত্য জনপদে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান ব্যাপ্টিস্ট চার্চসহ বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা, খ্রিস্ট সঙ্গীত ও উৎসবমুখর কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
সকালে সাড়ে ৮টায় চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান ব্যাপ্টিস্ট চার্চে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষ সমবেত হন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত প্রার্থনা ও খ্রিস্ট সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। চার্চের পালক রেভারেন্ড রোনাল্ড দিলীপ সরকার বিশেষ প্রার্থনা পরিচালনা করেন। এ সময় দেশ, জাতি ও মানবজাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে সানডে স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে কেক কেটে বড়দিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং এবং চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের সভাপতি বিপ্লব মারমা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
ডা. এটিএম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী (চট্টগ্রাম-৭, রাঙ্গুনিয়া); চট্টগ্রামের সাবেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খিসা, রাঙামাটি জেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর আব্দুল আলীম।
চার্চের সাধারণ সম্পাদক বিজয় মারমা-এর সঞ্চালনায় অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় এটি সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক মহামিলনমেলা। এছাড়াও উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের দুর্গম হরিনছড়া এলাকায় তিনটি এবং ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের আড়াছড়ি ত্রিপুরা পাড়া এলাকায় একটি চার্চে অত্যন্ত আনন্দঘন ও ধর্মীয় পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হয়। দুর্গম জনপদের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ সাধ্যমতো সাজসজ্জা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।