বাঙ্গালহালিয়ায় পাঁচ দিনব্যাপী বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা

দেড় শতাধিক উপাসক-উপাসিকার মিলনমেলা

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুদুমছড়া বৌদ্ধ বিহারে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পাঁচ দিনব্যাপী বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই কর্মশালা শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে আগত প্রায় দেড় শতাধিক দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকা অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী দিনে সকালে কুটুরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চারবার মাঠ প্রদক্ষিণ করে পিন্ড শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার মধ্য দিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। রাজস্থলী ‘দি বুদ্ধ সাসনা হিতাকারি এসোসিয়েশন’-এর ব্যবস্থাপনায় এবং কুদুমছড়া পাড়া বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জগতের সকল প্রাণীর চিত্তের ক্লেশ মুক্তির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিদর্শন ভাবনা পরিচালনা করেন মিয়ানমার সরকার কর্তৃক “আগগা মহা সদ্ধর্ম জ্যোতিকা ধ্বজা” উপাধি প্রাপ্ত ভদন্ত কিত্তিমা মহাথের। তিন পার্বত্য জেলা থেকে আগত ধ্যানী উপাসক-উপাসিকারা জানান, মানুষের মনের কালিমা ও পাপ দূর করার ক্ষেত্রে বিদর্শন ভাবনার কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন,
“শরীরে ময়লা লাগলে আমরা যেমন দ্রুত পরিষ্কার করি, তেমনি মনের ময়লা পরিষ্কার করতেও বিদর্শন ভাবনা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের ধ্যানের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে। তবে বিহারের মনোরম পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আবাসন ও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের ভাষ্যমতে, বিহারটিতে শৌচাগার, পাটি, বালিশ, কম্বল এবং মাঠ সংস্কারসহ স্থায়ী অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। যদিও স্থানীয় পাড়াবাসী ও দায়ক-দায়িকাদের আন্তরিক সেবায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তারা রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছেন।
কুদুমছড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ চাইন্দাসারা ভিক্ষু জানান, পিন্ডচরণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এই বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কুদুমছড়া পাড়া কারবারি মাসুইচিং মারমা ও বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উসাচিং মারমাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন,
আমাদের বিহারে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদর্শন ভাবনা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং আগত অতিথিদের উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তারা বিহারের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।