
চৌধুরী মুহাম্মদ রিপনঃ
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপনকে ঘিরে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান পল্লীসহ চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা বর্ণিল সাজে সেজে উঠেছে। চার্চ, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।
গতকাল রাতে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বড়দিনকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ আগেই শুরু হয় নানা প্রস্তুতি। ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। বিশেষ করে চন্দ্রঘোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ ও আশপাশের এলাকা এখন উৎসবের রঙে রঙিন। রাতে আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা এক অনন্য সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে।
ধর্মীয় আয়োজনের অংশ হিসেবে গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা, উপাসনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যিশু খ্রিস্টের জন্মের তাৎপর্য তুলে ধরতে থাকছে বাইবেল পাঠ, ধর্মীয় সংগীত ও বিশেষ উপদেশমূলক অনুষ্ঠান।এছাড়াও সামাজিক দিক থেকে পরিবার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নানা আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান।
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের সভাপতি বিপ্লব মারমা জানান, “বড়দিন আমাদের জন্য শান্তি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে। চন্দ্রঘোনায় প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় ও সামাজিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সবাইকে এই আনন্দঘন উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাই।
চন্দ্রঘোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক প্রধান রেভারেন্ড রোনাল্ড দিলীপ সরকার বলেন, ২০ ডিসেম্বর চাইল্ড ক্রিসমাস শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বড়দিন মানুষকে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। এই উপলক্ষে আমরা দেশবাসীসহ সকল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাই।
সব মিলিয়ে চন্দ্রঘোনায় বড়দিনকে ঘিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক আনন্দের এক মিলনমেলা সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে।




