
মোঃ আবদুল হক (মানিকগঞ্জ)
ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি মাছের আড়ত থেকে তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের উপজেলা মৎস্য অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হলে উপজেলা প্রশাসন দুইজনকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেন। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতরা হলেন—রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও সাইফুল শেখ এবং পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ডালারচর গ্রামের কাউছার সরদার। এ সময় মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রিক ছুবনী/ছিপি, ১২ ভোল্টের তিনটি ব্যাটারি, ২৬,৮০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইনভার্টার/আইপিএস এবং দুটি ফগ লাইট জব্দ করে থানার জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি ভাড়ায় চালিত হওয়ায় জব্দ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে অন্য জেলা থেকে আসা কিছু জেলে ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজ তৈরি করে ইলেকট্রিক ছুবনী/ছিপি ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে আসছিল। ইলেকট্রিক ছুবনী পানিতে প্রবেশ করালে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার এলাকাজুড়ে পানির নিচে থাকা সব ধরনের জলজ প্রাণী মারা যায় এবং পরে ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠা বড়, মাঝারি ও ছোট মাছ সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে বিক্রি করা হতো। রোববার সকালে আন্ধারমানিক পদ্মা নদীর পাড়ে একটি মৎস্য আড়তে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ধরা মাছ বিক্রির সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে চারজনকে ধাওয়া করে। এ সময় একজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের উপজেলা মৎস্য অফিসে সোপর্দ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ইলিশ প্রকল্পের ক্ষেত্র সহকারী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আজ সকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি অবৈধ মৎস্য শিকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান। হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইজা বিসরাত হোসেন জানান, “স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে মৎস্য অফিসে সোপর্দ করার পর উপজেলা মৎস্য অফিস প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দুইজনকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দকৃত ইলেকট্রিক শকার, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।




