
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে আলোচনায় রয়েছেন মো. ইব্রাহিম হাবিব মিলু। দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হাবিব মিলুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু ১৯৯৬ সালে কর্ণফুলী কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে। এরপর ১৯৯৭ সালে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক, ১৯৯৯ সালে কর্ণফুলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০০ সালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৩ সালে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং ২০১২ সালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে রাঙামাটি জেলা যুবদলের সহপ্রচার সম্পাদক, ২০১৯ সালে কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২০ সালে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সহযুব বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।২০২১ সালে কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এবং ২০২৩ সালে ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইব্রাহিম হাবিব মিলু। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলেও তাঁর সমর্থকদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফলাফল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালের ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই সময়ও নির্বাচনী মাঠে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্যোগের সময় সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে ইব্রাহিম হাবিব মিলুর উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে তাঁর এলাকাবাসীর দাবি। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে তাঁর চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি নির্ভর করবে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মো. ইব্রাহিম হাবিব মিলু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। সুযোগ পেলে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই আমি নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করব। আমাদের প্রতিনিধি সরেজমিনে ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, “ইব্রাহিম হাবিব মিলুকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রার্থী হলে ভোটাররা তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।





