কাপ্তাইয়ে চিংম্রং ও ব্যাংছড়ি পাড়া বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় দানানুষ্ঠান

 

বর্ষাবাস উপলক্ষে চীবর, পিণ্ডদান, কল্পতরু ও বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ধর্মীয় তীর্থস্থান চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার ও ব্যাংছড়ি পাড়া জয়মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বর্ষাবাস উপলক্ষে চীবর দান, পিণ্ডদান, কল্পতরু ও বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিহারের অধ্যক্ষ পূজণীয় শ্রদ্ধেয় বড় ভান্তে উঃ পামোক্ষা মহাথেরকে বর্ষাবাস চীবর (ওয়াছো সাংগ্রাই), পিণ্ডদান, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়। এতে চট্টগ্রাম ইপিজেড ফারা রংখ্রেদ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ ওয়াইনাসিরি, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু মংহাই মারমা এবং চট্টগ্রাম যুব সমাজসহ সংশ্লিষ্ট দায়ক-দায়িকারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ভান্তের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দান-দক্ষিণা প্রদান করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যে ভিক্ষুসংঘকে চীবর, আহার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দানকে পুণ্যকর্ম হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্ষাবাসকালীন ভিক্ষুসংঘের প্রতি দায়ক-দায়িকাদের এ ধরনের দান ধর্মীয় জীবন ও সংঘের সঙ্গে গৃহীদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। অন্যদিকে একই দিনে কাপ্তাই উপজেলার ব্যাংছড়ি পাড়া জয়মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বিহার‌ অধ্যক্ষ উঃ সনাশিরি ভান্তেকে বর্ষাবাস উপলক্ষে চীবর (ওয়াছো সাংগ্রাই), পিণ্ডদান ও কল্পতরু দান করা হয়। এ সময় বিহারে থাকা অনাথ শিশুদের মাঝে বই, খাতা, কলম, সুষম‌ খাবার, ও ‌ খাদ্যসামগ্রীসহ , নতুন বিহারে নির্মাণের‌ অর্থ নগত‌ টাকা,বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিহারের ধর্মীয় কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন দায়ক-দায়িকারা। এ সময় ফারা‌ রংখ্রেদ‌ বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবু মংহাই মারমা বক্তব্য রাখেন। তিনি অধ্যক্ষ উঃ সনাশিরি ভান্তের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি অনাথ শিশুদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই; শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তিনি শিশুদের নিয়মিত পড়ালেখা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যে পিণ্ডদান বা ছোয়াইং ভিক্ষুসংঘকে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি। আর কল্পতরু দানের মাধ্যমে ভিক্ষুসংঘের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যাদি দানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি অসহায় ও অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, দান ও মানবসেবার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এসব আয়োজন সম্পন্ন হয়।