
মোহাম্মদ মাসুদঃ
স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা, অপপ্রচার, হুমকি ও হয়রানির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছে। অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি আয়োজনে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক আয়ান শর্মাকে ঘিরে হুমকি, অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভয়ভীতি, হুমকি, অপপ্রচার বা সামাজিকভাবে হেয় করার মাধ্যমে সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে আয়ান শর্মা ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন চাপের মুখে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়েও তাকে ঘিরে নতুন করে অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকের স্বাধীনতা মানে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা নয়। সাংবাদিকের ভুল হলে আইন ও পেশাগত নীতিমালা অনুযায়ী জবাবদিহি করতে হবে। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তদন্তের আগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার জুলহাজ নীল, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আলম রফিক, দ্য ফিন্যান্স টুডের সম্পাদক মতিউর রহমান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট এম এ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অশোক চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা শুধু তার ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের তথ্য জানার অধিকার ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ জড়িত। **অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা হোক—কিন্তু হুমকি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। মানববন্ধন শেষে চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, হুমকি-হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।





