রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনে বম জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি

দীর্ঘদিনের বসবাস ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন সংশোধনের আহ্বান

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ২(খ) ধারায় বম (Bawm) জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত বম জনগোষ্ঠী। দীর্ঘদিনের বসবাস, স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তাদের নাম সংশ্লিষ্ট আইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রিনলম বম পালম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ২(খ) ধারায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সংজ্ঞায় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখুয়া ও খেয়াং জনগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর নাম ওই ধারায় অন্তর্ভুক্ত নেই। বম জনগোষ্ঠীর দাবি, তাদের একটি অংশ প্রায় ৪৬ বছর ধরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বসবাস করে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, পোশাক ও জীবনধারার মাধ্যমে তারা স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ধারণ করে আসছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের বসবাস ও স্বতন্ত্র পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আইনের সংজ্ঞায় বম জনগোষ্ঠীর নাম না থাকায় তাদের পরিচয় ও উপস্থিতি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিষয়টি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এটি বিভাজনের দাবি নয়’ বম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দাবি কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা বা স্বীকৃতির বিরোধিতা নয়। বরং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সব জনগোষ্ঠীর সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয় ও অস্তিত্বকে সংশ্লিষ্ট আইনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এটি বিভাজনের দাবি নয়; নিজস্ব পরিচয়, অস্তিত্ব, মর্যাদা ও যথাযথ আইনগত স্বীকৃতির দাবি। আইন, তথ্য-প্রমাণ, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এ দাবি তুলে ধরতে চান তারা। সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদের আলোকে স্বীকৃতির দাবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।বম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংবিধানিক চেতনার আলোকে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের যথাযথ স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।পাঁচ দফা দাবি বম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—১. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই ও স্বীকৃতি দেওয়া। ২. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ২(খ) ধারায় “বম (Bawm)” জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৩. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর বসবাসের ইতিহাস, জনসংখ্যা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই ও নথিভুক্ত করা। ৪. বম জনগোষ্ঠীর নাম সংশ্লিষ্ট আইনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। ৫. বম জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয় সংরক্ষণ ও বিকাশে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে বম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সদস্য পদে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। বম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ২(খ) ধারায় বম জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হোক।