
স্টাফ রিপোর্টার
ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে -এ। নিহত নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির—দুজনই ওই গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য জটিলতা এবং আর্থিক বিরোধ জড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের ভাষ্য, হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকা সত্ত্বেও তিনি আত্মীয় এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি পরিবার মেনে না নেওয়ায় বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে পারিবারিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।এছাড়া, ছোট ভাই নয়নকে ইতালি নেওয়ার খরচ ও পরবর্তী আর্থিক লেনদেন নিয়েও দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল বলে পরিবারের দাবি। নয়ন নির্ধারিত অর্থের চেয়েও বেশি পরিশোধ করেছিলেন—এমন দাবিও করেছেন স্বজনরা। সম্প্রতি আরও অর্থ দাবি করা হলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইতালিতে তাদের বাসার নিচে নয়ন বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে গেলে হুমায়ুন ওত পেতে থেকে পেছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিও কলে দেশে থাকা স্বজনদের মরদেহ দেখান, যা পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। প্রথম স্ত্রীও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার পর ইতালি পুলিশ হুমায়ুন ফকিরকে আটক করেছে। নিহত নয়নের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছাতে পারে—তা নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।





