গৌরবের তিন দশক: প্রীতিভোজ ও বর্ণিল আয়োজনে কাপ্তাই ৪১ বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

চৌধুরী মুহাম্মদ রিপনঃ

যথাযোগ্য মর্যাদা, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঐতিহ্যবাহী ইউনিট কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানাবিধ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজিবির গৌরবময় পথচলার এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়। দিনের কর্মসূচির শুরু হয় ফজরের নামাজের পর। ব্যাটালিয়নের সকল স্তরের সদস্যদের অংশগ্রহণে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর ব্যাটালিয়ন সদরে বিজিবির রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ সূচনা করা হয়। উল্লেখ্য, আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে ১৯৯৬ সালের ০৮ এপ্রিল দিনাজপুর সেক্টরের অধীনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘৪১ রাইফেল ব্যাটালিয়ন’ হিসেবে এই ইউনিটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সময়ের পরিক্রমায় ব্যাটালিয়নটি পঞ্চগড়, রাজনগর, সাতক্ষীরা ও সিলেটে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৭ জুন ইউনিটটি বর্তমান অবস্থান কাপ্তাইয়ে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্ত সুরক্ষায় ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ব্যাটালিয়নের আভিযানিক সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে। মাদক পাচার, নারী ও শিশু পাচার রোধ এবং চোরাচালান দমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের একমাত্র পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র’-এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। বড় ধরনের অবৈধ কাঠ, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আটক করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুরে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক মধ্যাহ্নভোজ ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, পিবিজিএম, পিএসসি। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ব্যাটালিয়নের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও চোরাচালান রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই আয়োজন সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত করতে সহায়ক হবে। উক্ত প্রীতিভোজে স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যাটালিয়নের সকল পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের আমেজ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন তাদের গৌরবময় যাত্রার তিন দশক পূর্ণ করল।