চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের উদ্যোগে জমকালো পিঠা উৎসব

রবিউল হোসেন চৌধুরী রিপনঃ

“নতুন ধানে নতুন প্রাণে, চলো মাতি পিঠার ঘ্রাণে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দঘন পরিবেশে বর্ণিল পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীতকালীন এই আয়োজনে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ ও সৃজনশীলতার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী ফুটে ওঠে।
চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের ডা. মং স্টিফেন চৌধুরী অডিটোরিয়াম হলরুমে আয়োজিত এ পিঠা উৎসবে মোট ১২টি স্টল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি স্টলে নকশি পিঠা, পুলি, চিতই, ভাপা পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী ও মুখরোচক পিঠা নান্দনিকভাবে সাজানো হয়।
পিঠার স্বাদ, বৈচিত্র্য এবং স্টলের সাজসজ্জার ভিত্তিতে বিচারকদের মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করে ডক্টর’স কিচেন, দ্বিতীয় স্থান সাতরং, তৃতীয় স্থান অন্যরকম এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করে নবান্ন পিঠা বাড়ি। খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিসিএইচপি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার বিপ্লব মারমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. রুহুল আমিন বলেন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এ ধরনের আয়োজন আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রামের অনলাইন পত্রিকা পোট্রেট–এর ৫০ জনের একটি ফ্যামিলি টিম। এ সময় খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং পোট্রেট ফ্যামিলি টিমকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। উৎসবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পোট্রেটের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।