চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ: প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, সমাধানের আশ্বাস

মোহাম্মদ মাসুদঃ

নগরী দীর্ঘ তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে ভুগছে। বারবার প্রতিশ্রুতি এলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে আবারও নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে নোটিশ উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিবর্ষণের কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে—এ জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। অল্প বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাচ্ছে। মানুষ জলাবদ্ধতায় আটকা পড়ছে, যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, নিউমার্কেট, ৩ পুলের মোড়, আগ্রাবাদ ও হালিশহরের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের ভোগান্তি বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা, এমনকি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও, সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। অফিসগামী মানুষ দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন; কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেনের ময়লা পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-নালা দখল, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া, পাহাড় কাটার ফলে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। সরকার খাল খনন, বর্জ্য অপসারণ এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ—তিন দশক ধরে বহু পরিকল্পনা শোনা গেলেও দৃশ্যমান ফল মেলেনি; তারা এখন বাস্তবসম্মত, টেকসই সমাধান চান।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এবার ৭০–৮০ শতাংশ পানি কমে আসবে বলে আশা করছেন। তিনি নিয়মিত খাল-ড্রেন পরিষ্কার রাখা হচ্ছে জানিয়ে নালা-নর্দমায় ময়লা না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।