
আহমদ বিলাল খানঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি জেলার ২৯৯ নং সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সাতজন প্রার্থী পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরকেন্দ্র পর্যন্ত টানা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা তুলে ধরছেন নিজ নিজ উন্নয়ন ভাবনা ও অঙ্গীকার।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় পুরুষ ও একজন নারী প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা, গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা), খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অশোক তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের পহেল চাকমা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত প্রার্থীরা রাঙামাটির ১০টি উপজেলায় সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সমস্যা শোনেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন এলাকার সার্বিক উন্নয়নের। জনসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, শোভাযাত্রা, স্লোগান ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চলছে নিয়মিত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংসহ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রার্থীরা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, তিনি রাঙামাটির সন্তান হিসেবে পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চান। বিভেদ নয়, ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান খাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের ভালোবাসা নিয়েই বিজয় অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নারী, শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার মূল লক্ষ্য। কোদাল প্রতীক শ্রম ও সংগ্রামের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা) বলেন, তিনি সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে কাজ করতে চান। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন করতে চান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সমাজে ন্যায়বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার বলেন, কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করাই তার লক্ষ্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা জানান, দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, রাঙামাটি-২৯৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাত প্রার্থীর সক্রিয় ও সরব প্রচারণায় রাঙামাটি-২৯৯ আসনের নির্বাচনী মাঠ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়া ভোটাররা এবার ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে ভোটের ফলাফলে বড় চমক আসতে পারে বলেও মনে করছেন তারা ভোটাররা।





