দুর্গম পাহাড়ে মানবতার ছোঁয়া: কাপ্তাই ৪১ বিজিবি’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী

চৌধুরী মুহাম্মদ রিপনঃ

রাঙ্গামাটির দুর্গম সীমান্ত পাহাড়ে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনসেবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর উদ্যোগে জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম বগাখালী এলাকায় এক বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বগাখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে বগাখালী বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ১১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মানসম্মত ওষুধ প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এসব মানুষের মুখে এদিন স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস্। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়, দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিজিবি মহাপরিচালকের মূলনীতি—‘বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করবে এবং বিজিবি ও জনসাধারণের মধ্যকার আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। দুর্গম দুমদুমিয়া ইউনিয়নের বগাখালী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষদের ইউনিটের মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদী রোগ সংক্রান্ত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে বিজিবি’র পদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় পাড়া কারবারী, হেডম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) নিয়মিতভাবে সীমান্ত এলাকার মানুষের কল্যাণে ত্রাণ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকার মানুষের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।