
কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে এনজিওতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা রাজিব। কিছুদিন চাকরি করার পর নিজের ভেতরে জন্ম নেয় ভিন্ন এক ভাবনা—চাকরির গণ্ডি পেরিয়ে নিজ এলাকায় কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা জীবন। প্রথমে গরু, ছাগল ও মুরগির খামার দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। শুরুতে সফলতাও আসে। তবে পরে পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের অপার সৌন্দর্যকে ঘিরে পর্যটন খাতে সম্ভাবনা দেখতে পান রাজিব। এরপরই প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৃতি নির্ভর পর্যটনকেন্দ্র “টং ইকো রিসোর্ট”। হাঁটি হাঁটি পা পা করে শুরু হওয়া সেই ছোট উদ্যোগ আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত একটি নাম। রাঙামাটির কাপ্তাই ও রাঙামাটি সদর উপজেলার মাঝামাঝি মগবান ইউনিয়নের কামিলাছড়ি এলাকায় কাপ্তাই লেকের কোলঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।
রিসোর্টের মালিক রঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা রাজিব জানান, বর্তমানে তার রিসোর্টে “কর্ণফুলী” নামে একটি ডরমিটরিসহ মোট ছয়টি কটেজ রয়েছে। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে মিশ্র ফলের বাগান। পাহাড়ি নকশায় নির্মিত কটেজগুলোর নাম রাখা হয়েছে রাইনখিয়ং, কাচালং, সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ বিভিন্ন নদীর নামে। তিনি আরও জানান, রিসোর্টে একসঙ্গে প্রায় ৪০ জন কটেজে এবং শতাধিক মানুষ তাবুতে রাত্রিযাপন করতে পারেন। এছাড়া সেমিনার, ট্রেনিং, ক্যাম্পিং ও পিকনিক আয়োজনেরও সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের জন্য কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ, ক্যাম্পফায়ার ও বারবিকিউ সুবিধাও রাখা হয়েছে।
রিসোর্ট ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে ফুল ও ফলের বাগান। আম, কাঁঠাল, লিচু, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের চাষ করেও সফলতা পেয়েছেন এই উদ্যোক্তা। নিরাপদ ও নিরিবিলি পরিবেশের কারণে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।
খাবারের তালিকায় রয়েছে ব্যাম্বু চিকেনসহ পাহাড়ি ও দেশীয় নানা মুখরোচক খাবার। পর্যটকদের জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন আবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই লেক, পাহাড়, বনাঞ্চল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে “টং ইকো রিসোর্ট” এখন কাপ্তাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষায় মেঘ, পাহাড় ও লেকের অপূর্ব দৃশ্য এবং শীতে নির্মল পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ঢাকাসহ সারাদেশ বিদেশ থেকে সরাসরি রাঙামাটি ও কাপ্তাইগামী বাসে কিংবা চট্টগ্রাম হয়ে সহজেই টং ইকো রিসোর্ট এ যাওয়া যায়। কাপ্তাই পৌঁছে সিএনজি কিংবা নৌপথে রিসোর্টে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি-আসামবস্তি সড়ক হয়েও সহজে যাওয়া যায়। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ গাড়ি পার্কিং সুবিধাও রেখেছে টং ইকো রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।





