কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে তিন মাসের বিরতি

আহমদ বিলাল খান:

কাপ্তাই হ্রদে নেমে এসেছে মৌসুমি নীরবতা। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই জলাধারে শুরু হয়েছে তিন মাসের মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।নিষেধাজ্ঞার প্রাক্কালে রাঙামাটির বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ ঘাটে দেখা গেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মাছ ধরার নৌকা, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম গুছিয়ে নেওয়ার ব্যস্ততা চলে দিনভর। ব্যবসায়ীরা সংরক্ষণ সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছেন, শ্রমিকরা নৌকা সারিবদ্ধভাবে ঘাটে বেঁধে রাখছেন। একই সঙ্গে বন্ধ হতে শুরু করেছে বরফকলগুলোও। প্রায় ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই কাপ্তাই হ্রদে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২৫ হাজার জেলে। তারা ছোট ছোট নৌকায় করে প্রতিদিন মাছ ধরে রাঙামাটির বিএফডিসি ঘাটে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করেন এবং পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেন। পুরো অঞ্চলের মাছ ব্যবসা ও জেলেদের জীবন-জীবিকা এই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও শ্রমিকদের মধ্যে এ সময়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। একজন শ্রমিক বলেন, এই সময়টা তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ বিকল্প আয়ের সুযোগ খুব সীমিত। মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, হ্রদের পানি কমে যাওয়া এবং নাব্যতা সংকটের কারণে মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় কমে গেছে। এতে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে মা মাছের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পোনা মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখা। প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে হ্রদ এলাকায় কঠোর নজরদারি থাকবে। অবৈধভাবে মাছ আহরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্বে আহরিত মাছ ও শুঁটকি পরিবহন সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।