সাংগ্রাই জল উৎসব–২০২৬: কাপ্তাই চিৎমরমে বর্ণিল আয়োজন

কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ

১৫ এপ্রিল, বুধবার কাপ্তাই চিৎমরম সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসব–২০২৬ বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়। ১৪–১৫ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ধর্মীয় আচার, শোভাযাত্রা, শুভেচ্ছা বিনিময়, মৈত্রী জল বর্ষণ এবং আদিবাসী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসব কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে এবং সানুচিং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টু ও সাইফুল ইসলাম পনির, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের শুরুতে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন ও পিণ্ডদান করা হয়। এরপর পবিত্র বুদ্ধস্নান, ধর্মদেশনা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই শোভাযাত্রা চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে সাংগ্রাই শুভেচ্ছা বিনিময়, আলোচনা সভা এবং ‘মৈত্রী জল বর্ষণ’-এর উদ্বোধন করা হয়। সন্ধ্যায় আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যান্ড শো ও একোস্টিক পরিবেশনা উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। এই জল উৎসবের মাধ্যমে মানুষ পুরনো গ্লানি ধুয়ে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ ধরনের উৎসব সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।