
মোঃ বিল্লাল হোসেন জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে অভিযান চালিয়ে চারটি ড্রেজার ও দুটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে আটক করা হয়। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে কোস্টগার্ডের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ি অস্থায়ী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা অংশ নেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত চারটি ড্রেজার ও দুটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা। আটককৃতদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো জানান, আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিযানে জব্দ করা ড্রেজার ও বাল্কহেড পাটুরিয়া নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (পেটি অফিসার) আব্দুল আজিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র যমুনা নদীর তেওতা এলাকার গভীর চরাঞ্চলে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারিভাবে তেওতা বালুমহালের ইজারা থাকলেও নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৩ এপ্রিল তেওতা বালুমহালের ম্যানেজার মিরাজ হোসেন (৪০) প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন। স্থানীয়দের মতে, বালুর অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে | চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ প্রভাবশালী মহলের কাছে চলে যায়। তারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।





