
বিএমআর, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও জি-টু-জি পদ্ধতিতে রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ
চৌধুরী মুহাম্মদ রিপনঃ
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা। এ জন্য বিদেশি বিনিয়োগ, বিএমআর (ব্যালান্সিং, মডার্নাইজেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, “কেপিএম একসময় লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রতিষ্ঠানটির বেশ সুনামও ছিল। আমরা কেপিএমকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনা করেছি। দেশের রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।
মতবিনিময় সভায় কেপিএমের সার্বিক কার্যক্রম, বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি এবং কারখানাটিকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাপ্তাই উপজেলার সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দিলদার হোসেন, কেপিএমের উৎপাদন বিভাগের প্রধান মঈদুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আবুল কাসেম রনি এবং মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. মুজিবুর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল, কেপিএম সিবিএর সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু সরোয়ারসহ কারখানার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এর আগে কেপিএমের গেস্ট হাউসে পৌঁছালে বিসিআইসি চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও সিবিএ নেতারা। এ সময় কারখানার নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে গেস্ট হাউসের পাশে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিসিআইসি চেয়ারম্যান কেপিএম কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কেপিএমকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং কাগজশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কেপিএমের উৎপাদন পুনরুদ্ধারে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন এবং কারখানার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের ওপর নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি।





