
মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আলোচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ব্যাপক সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাটিকে মূলধারার যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রোববার (৮ জুন) দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। গত ৪ জুন থেকে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জঙ্গল সলিমপুরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বায়েজিদ লিংক রোড, ভাটিয়ারী ও হাটহাজারী এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সড়ক নির্মিত হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কার্যকর হবে। ১০ কিলোমিটার সড়ক, তিনটি সেতু ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তিনটি সেতু (ব্রিজ), একাধিক কালভার্ট এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি জনপদকে জাতীয় যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করাই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগের অভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। নতুন সড়ক নির্মিত হলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে। এতে অপরাধ দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ছয় থেকে সাত মাসে কাজ সম্পন্নের লক্ষ্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে। উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে বহু বছরের যোগাযোগ সংকট দূর হবে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় এলাকায় স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জঙ্গল সলিমপুরে চলমান এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চলকে মূলধারার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





