
উথোয়াই মং মারমা আহ্বায়ক, মংসুই উ মারমা সদস্য সচিব
রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম (চিংম্রং) এলাকায় মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের সাংগ্রাই উৎসবকে বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উথোয়াই মং মারমা-কে আহ্বায়ক এবং মংসুই উ মারমা-কে সদস্য সচিব করে একটি উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চার সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— আহ্বায়ক কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াই মং মারমা, যুগ্ম আহ্বায়ক চিৎমরম আগা পাড়া কার্বারী উসাই মং মারমা, সদস্য সচিব উন্নয়ন কর্মী মংসুই উ মারমা এবং যুগ্ম সচিব চিৎমরমের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাচিং উ মারমা। নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারমা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে তিন দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল (সাংগ্রাই বরণ): উৎসবের প্রথম দিনে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার মধ্য দিয়ে সাংগ্রাই উৎসবের সূচনা হবে। এদিন প্রতিটি বসতবাড়ি এবং গৃহপালিত প্রাণীকে তাজা ফুল দিয়ে সাজানো ও ফুলের মালা পরিয়ে নতুন বছরের আগমনকে বরণ করা হবে।
১৪ এপ্রিল (মূল সাংগ্রাই): দ্বিতীয় দিনে পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের আমেজ থাকবে তুঙ্গে। এদিন সকালে বিভিন্ন বিহারে ছোয়াইং পূজা (অন্নদান), বুদ্ধ স্নান এবং প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করা হবে। দিনব্যাপী থাকবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও ধর্মীয় দেশনা। ১৫ এপ্রিল (জল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান): উৎসবের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত সাংগ্রাই জল উৎসব। পবিত্র জল ছিটিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হবে। দিনব্যাপী নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মারমা ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হবে। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমা বলেন, চিংম্রংয়ের সাংগ্রাই জল উৎসব এখন শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২০২৬ সালের আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কমিটির সদস্য সচিব মংসুই উ মারমা বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে চিংম্রং এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলা বসে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।





