
দুর্গম পাহাড়ে অনাথ ও অসহায় শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানে বিদায় নিল ৩৩ পরীক্ষার্থী
রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কুকিমারা এলাকায় অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান লোটাস শিশু সদন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়-এর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে ধর্মীয় বন্দনা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে অনাথ ও অসহায় শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অভিভাবকহীনতার কারণে অনেক শিশু ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাদের আবাসন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ড. নাগাসেনা ভিক্ষু-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, তোমরাই পাহাড়ের প্রকৃত সম্পদ। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমরাই পারবে এই জনপদের ভাগ্য বদলাতে। তোমরাই হবে আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুকিমারা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উ. বিসারদা ভিক্ষু, রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিংমং মারমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লাঅং মারমা, ওয়াগ্গা ১০০ নং মৌজার হেডম্যান অরুণ তালুকদার, ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুবিমল তঞ্চঙ্গ্যা, বড়ইছড়ি নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া, সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশোতোষ তঞ্চঙ্গ্যা এবং লোটাস শিশু সদন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হ্রাংহ্লামং মারমা। লোটাস শিশু সদনের সহকারী শিক্ষক হ্লাচিংপ্রু মারমা-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুন্নী বড়ুয়া। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা হিসেবে ম্রো, খুমী, মারমা, খিয়াং, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের গান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে। বিদায়ী ৩৩ জন পরীক্ষার্থী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা জানায়, এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে কেবল একটি বিদ্যালয় নয়, বরং একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। শিক্ষকদের স্নেহ, ভালোবাসা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা আজ উচ্চশিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাতে পেরেছে। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ ও বিশেষ স্মৃতিস্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরিশেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।





