মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য, যৌথ বাহিনীর নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুর এবং সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । রোববার (৩১ মে) জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভিতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুর তার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে কিছু সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের বাসভবনে হামলা, অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার এবং চাঁদাবাজির ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এসব অপরাধ দমনে গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা সিসিটিভি ক্যামেরা, পাহারাদার ও নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলে কার্যত সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। যৌথ অভিযানে সেই কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্য শতভাগ অর্জিত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কোথা থেকে পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিভিন্ন কারণে যারা এখানে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কাউকে আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।” এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি। জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ স্থাপন করে একটি আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের দীর্ঘদিনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকাও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে এবং কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য আর থাকতে দেওয়া হবে না। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পরও নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের পেছনে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, ভূমিদস্যুতা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের ভিতরে আরেকটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী , , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃশামছুল আলম, প্রকাশকঃ রবিউল হোসেন রিপন, ০১৬৩৯২২৫২০৫, সম্পাদকঃ পম্পি বড়ুয়া
Copyright © 2026 দৈনিক রাঙামাটি সময়. All rights reserved.