আহমদ বিলাল খান:
এখন থেকে ‘বৈসাবি’ নয়—পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব নামে ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব উদযাপন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানী ঢাকায় বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। র্যালিটি বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে ‘বিজু ফুল’ সমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, অতীতে ‘বৈসাবি’ নামকরণ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে একধরনের বৈষম্য তৈরি করেছিল। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করতে চায়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এখন থেকে প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসব স্ব-স্ব নামে নির্বিঘ্নে পালন করবে এবং সব উৎসবই রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান মর্যাদা পাবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সমতল ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালি ঐক্যের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ আজ সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে ঐক্য ও অগ্রগতির আহ্বান জানান। র্যালিতে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকায় বসবাসরত তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করেন। পরে রমনা পার্কের লেকে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃশামছুল আলম, প্রকাশকঃ রবিউল হোসেন রিপন, ০১৬৩৯২২৫২০৫, সম্পাদকঃ পম্পি বড়ুয়া
Copyright © 2026 দৈনিক রাঙামাটি সময়. All rights reserved.