রাঙামাটিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
আহমদ বিলাল খানঃ
হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বসতভিটায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় তারা লুটপাটকৃত মালামাল ফেরত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফাতেমা আক্তার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্যন্ত গভীর দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও নির্যাতিত শিক্ষানবিশ আইনজীবী নূর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোয়ার্টার সংলগ্ন একটি সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন।
তিনি জানান, জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাউন্ডারির বাইরে অবস্থিত। তার বাবা মরহুম আবুল কালাম জীবদ্দশায় সেখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করে আসছেন। ২০১৯ সালে জমিটি বন্দোবস্তের জন্য তারা বাজার ফান্ডে আবেদন করেন। তবে আবেদনের প্রায় দুই বছর পর একটি মহল পাল্টা আবেদন করে তাদের হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এবং মাস্টার রোলে কর্মরত তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে তাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
ফাতেমা আক্তার আরও বলেন, জমিটি নিয়ে বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে (রিট পিটিশন নং–১০৩/৯৯ অবলিক ২৪)। আদালত উক্ত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি তাদের বসতঘরের ওপর একটি বড় কাঁঠাল গাছ ফেলে ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘর মেরামতের সময় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় পরিবারের সদস্যরা আহত হন এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘর থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ লুটপাট সংঘটিত হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী তোফায়েল আহমেদ একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তিনি নিজে ও তার সহযোগীরা একাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবিসমূহ— ১. হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জমির স্থিতাবস্থা বজায় রেখে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। ৩. ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল, ফাতেমা আক্তার, মো. মুরাদ, কুলসুমা আক্তার এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী নূর হোসেন। ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃশামছুল আলম, প্রকাশকঃ রবিউল হোসেন রিপন, ০১৬৩৯২২৫২০৫, সম্পাদকঃ পম্পি বড়ুয়া
Copyright © 2026 দৈনিক রাঙামাটি সময়. All rights reserved.