মোঃ আবদুল হক, হরিরামপুরঃ
শীত মৌসুম এলেই গ্রামবাংলায় কাঁচা খেজুরের রস পান একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। শীত যত বাড়ে, খেজুরের রসের স্বাদ ততই মিষ্টি ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তবে এই ঐতিহ্যবাহী পানীয়কে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলায় বর্তমানে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কাঁচা খেজুরের রস পান করতে গিয়ে সেখানে বাড়ছে মানুষের ভিড়, একই সঙ্গে বেড়ে গেছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা ও ভাইরাল ভিডিওর কারণে এ বছর কাঁচা খেজুরের রস পানকারীর সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকা, সাভার, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ দলবেঁধে ছুটছেন হরিরামপুর উপজেলার খেজুর বাগানগুলোতে। রস পানকে ঘিরে সেখানে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। চলছে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার। রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় হরিরামপুর উপজেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা গাছিপাড়া ও ভাদিয়াখোলা এলাকায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জড়ো হচ্ছেন। এসব এলাকায় প্রতি লিটার কাঁচা খেজুরের রস ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি বাল্লা ইউনিয়নের একটি খেজুর বাগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ রস পান করতে জড়ো হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাগানের ভেতরেই সরাসরি রস বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করছেন। নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত কাঁচা খেজুরের রস। রস সংগ্রহের সময় বাদুড় খেজুরের হাঁড়িতে মুখ দেয় এবং তাদের লালা রসের সঙ্গে মিশে তা দূষিত করে। সেই দূষিত রস পান করার মাধ্যমেই মানুষের শরীরে নিপাহ ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম মোঃ ফাখখারুল ইসলাম বলেন, নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত মরণব্যাধি। কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একজন মানুষ আক্রান্ত হলে তার পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও মাঠপর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁচা খেজুরের রস পান পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শীতের আনন্দ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে খেজুরের রসের আকর্ষণ অস্বীকার করা যায় না। তবে জনস্বার্থে এবং প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়াতে সচেতন নাগরিক হিসেবে কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃশামছুল আলম, প্রকাশকঃ রবিউল হোসেন রিপন, ০১৬৩৯২২৫২০৫, সম্পাদকঃ পম্পি বড়ুয়া
Copyright © 2026 দৈনিক রাঙামাটি সময়. All rights reserved.